বরিশালের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে হাজারো সংগ্রামের গল্প। সেই জনপদের শোলনা গ্রাম থেকে উঠে আসা এক অদম্য তরুণের নাম ইয়ামিন ইসলাম। প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে একজন মানুষ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন, ইয়ামিন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শুরুটা যেখানে
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া ইয়ামিনের জীবনটা খুব একটা সহজ ছিল না। তার বাবা পেশায় একজন দক্ষ গাড়ি চালক। বাবার কঠোর পরিশ্রম আর সততা ছোটবেলা থেকেই ইয়ামিনকে শিখিয়েছে কীভাবে জীবনের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হয়। অভাব বা সীমাবদ্ধতা তাকে কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি, বরং তাকে আরও সাহসী করে তুলেছে।
কর্মজীবন ও নিরলস প্রচেষ্টা
ইয়ামিন বর্তমানে দ্বিমুখী লড়াই করছেন, যা বর্তমান তরুণ সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। একদিকে তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানিতে নিষ্ঠার সাথে চাকরি করছেন, অন্যদিকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে।
দিনের আলোয় পেশাগত দায়িত্ব পালন আর রাতের নিস্তব্ধতায় ল্যাপটপের সামনে বসে বিশ্ববাজারের কাজ করা—এই দুইয়ের সমন্বয় করা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু ইয়ামিন সেটিই করে দেখাচ্ছেন। তার এই পরিশ্রমের মূল উদ্দেশ্য নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।
পারিবারিক দায়িত্ব ও স্বপ্ন
ইয়ামিন শুধু নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ভাবেন না; তিনি একজন দায়িত্বশীল সন্তান। মায়ের অসুস্থতা বা পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়ান। শোলনা গ্রামের এই তরুণ আজ শুধু তার পরিবারের নয়, বরং তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
"পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না, যদি লক্ষ্য থাকে অটুট"—এই মূলমন্ত্রকেই জীবনের পাথেয় করেছেন ইয়ামিন ইসলাম।
উপসংহার
শোলনার শান্ত পরিবেশ থেকে উঠে আসা এই লড়াকু সৈনিকের গল্প আমাদের শেখায় যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে শহর কিংবা গ্রাম কোনো বাধা নয়। ইয়ামিন ইসলাম তার মেধা আর শ্রম দিয়ে নিজের পরিচয় নিজেই গড়ছেন। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি।

0 Comments